মতামত: ব্যক্তিগত কৃতি

মতামত: ব্যক্তিগত কৃতি


শীতের ছুটিতে এবার দেশে ফেরত গেছিলাম, তবে তেমন কোন খবর
নেই যা নিয়ে লেখা-লেখি করা যায় 

অনেক দিন পর ব্লগে পোস্ট লিখছি, এবং প্রথমত এর জন্য দুক্ষ প্রকাশ করছি। সত্তি কথা হোল যে আমার জীবনে এ মুহুর্তে লেখার মতন তেমন কোন বিষয় নেই। আমি সাধারণত একটি বিশেষ প্রসঙ্গ নিয়ে বেশ কয়েকটা লেখা ছাপাই ব্লগে, এবং আমার গত কয়েক পোস্ট ছিল মানুষকে আমার উভকামিতার কথা খুলে বলা নিয়ে। আমার এখনো এই ধারাবাহিকতার সব পোস্ট গুলো বাংলায় অনুবাদ করা হয়নি, তবে আমি এখনি অনুভব করছি যেয়ে এ নিয়ে আমার আর তেমন নতুন কিছু বলার নেই। 

আমি শীতের ছুটিতে বেশ কয়েক সপ্তাহ কাটিয়ে এসেছি দেশে এই কয়েক মাস হবে, এবং যাওয়ার আগে আমি ভেবেছিলাম এবার বোধয় আমি আমার পরিবারের বেশ কিছু সদস্যকে আমার উভকামিতার কথা খুলে বলব। কিন্তু সবার সাথে ওঠা-বসা এবং ছবি তোলার মাঝে আমার নিজের কাছে মনে হয় - ব্যাপারটা কি আসলেই এত দরকারী যে সবাই কে সামনা-সামনি খুলে বলতে হবে? ব্যাপারটা এই না যে নিজের পরিচয় নিয়ে অবাধে বাস করাতে আমি আর বিশ্বাস করি না। বরং এ স্বাধীন ভাবে বাস করার কারণেই আমি নিজেকে এই প্রশ্ন করি। যারা জানতে চায় তারা সহজেই আমার ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়া অথবা পারস্পরিক বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারে। এই কারনে মানুষকে সামনা-সামনি বলা - বিশেষ করে যারা আমার খুব একটা ঘনিষ্ট না - এখন আমার কাছে আর খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। আমি কাকে পছন্দ করি বা ডেট করছি - এ প্রসঙ্গ নিয়ে আমি আমার অনেক আত্বীয়-স্বজনেরই সাথে কখনো আলোচনা করি না, এবং  সে মানুষের জেন্ডার তাতে কোন ফ্যাক্টর না। এক কালে আমার মানসিকতা যখন অন্য রখম ছিল আমি হয়তো জোর করে এ সমস্ত প্রসঙ্গ নিয়ে কথা তুলতাম সচেতনতার জন্যে, তবে আজ আমি মনে করি একই সাথে নিজের ব্যক্তিগত জীবন কিছুটা নিজের জন্যে রক্ষা করা উচিত। আমার আত্বীয়-স্বজনেরা আমার উভকামিতার কথা একদিন নিশ্চয় এমনিই জেনে যাবে। 

তবে এই সবের শর্তেও হয়তো এই বিষয়ে আরও এক-দুইটা লেখা আমি ছাপতে পারি। আমার মা-বাবা এখনও আমার উভকামিতার কথা জানে না, এবং তাদেরকে সত্তি কথা খুলে বলা আমার মতে আমার নিকটতম বড় ধাপ। আমি কবে এ ধাপ পার হব তা জানি না, এবং এ করনে এখন কোন সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছি না। ইতিমধ্যে আমার আরো অনেক কিছু করার আছে। আমি আমার চাকরির উপর ফোকাস করেতে চাই, যা নিয়ে আমি সাধারণত এই ব্লগে লিখি না। আমি আমার বিশ্বাস নিয়ে শান্তিতে আছি। এ শান্তি সহজেই আসে যখন মানুষ বোঝে যে ধর্ম অনেক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়; এবং যারা LGBT পরিচয় কি তাই জানে না বা কোনদিন তারা LGBT মানুষের সাথে মুখোমুখি হয়নি, তাদের কাছ থেকে মঙ্গলকর ব্যাখ্যা আশা করার কোন মানে হয় না। অনেক মানুষ আমাকে বিভিন্ন LGBT অধিকারে বিশ্বাসী ইসলামী পাণ্ডিত্যের সোর্স পরার পরামর্শ দিয়েছে, হয়ত এখন সময় হয়েছে এগুলো সব খুঁজে বের করে নেয়ার।

আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তেমন কিছু লেখার না থাকলেও যে আমার লেখা থামিয়ে দিতে হবে তা নয়। আমার ব্লগের ড্যাশবোর্ডে বিভন্ন ছিটে-কাটা লেখা পরে আছে - বেশিরবাগ LGBT অধিকার, বাংলাদেশ ও ইসলাম নিয়ে। আমি আশা করছি যেয়ে এগুলো একটু গোছগাছ করার পর সামনের কয়েক মাস ধরে এগুলো চাপবো - তবে বিষয় গুলো বেশি জটিল হলে হয়তো বাংলায় অনুবাদ হবে না!  আর এ ছাড়া আমি অবশ্যই এখনও Twitter-এ একটিভ আছি। 

আমার উভকামিতা: খালাতো বোনের প্রতিক্রিয়া

আমার উভকামিতা: খালাতো বোনের প্রতিক্রিয়া

আমার দৃষ্টিকোণ  




আমি যদি কখনো বলতে চাই যে আমি কারোর সাথে বড় হয়েছি, তাহোলে আমার এই খালাতো  বোনের কথা বলতে হয়। আমাদের বয়সের পার্থক্য মাত্র দু বছর (ও বড়), এবং খুব ছোটবেলায় আমরা কয়েক বছর একসাথে কাটিয়েছি। বাংলাদেশের অনেকটাই আমি দেখি ওর চোখ দিয়ে। আমাদের বরাবর অনেক ঘনিষ্টতা: আমরা দুজনেই পরিবারে বড় সন্তান, সবকিছু অন্য সবার আগে করে এসেছি।বড় হওয়ার পর একে-অন্যের গোপন কথা রক্ষা করে এসেছি। ও বরাবরই আধুনিক বাংলাদেশের সাথে আমার সংযোগ - যে বাংলাদেশের সাথে আমার মা-বাবা, বিশেষ করে আমার বাবা, কখনই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেনি।

ওকে আমার উভকামিতার কথা বলতে অনেক দিন লেগে যায় কারণ কিছু মানুষকে এটা সামনা-সামনি বলা দরকার, এবং ও ছিল তাদের একজন। আমি ওকে অবশেষে বলার সুযোগ পাই আমার ভার্সিটি শেষ হওয়ার পরের গ্রীষ্মের ছুটিতে। আমি অনেক আগেই বুঝি যে ওর LGBT মানুষের প্রতি বিশেষ কোন বিরুপতা নেই - এমনকি আমি প্রথম বাংলাদেশী LGBT মানুষের কথা শুনি ওরি কাছ থেকে। যেমন ওর স্কুলে নাকি একজন পুরুষালী লেজ্বিয়ান ছিল যার যৌনতা কারোর কাছে তেমন কোন বড় ব্যাপার ছিল না। আমি ওর কাছ থেকে যখন-তখন এই ধরনের এক দুই কথা শুনতাম, কিন্ত এই কথাগুলো ও যখনই বলত না কেন সেটা কোন ওর মুখে ঘৃন্না বা অপ্রীতি ছিল না। আমি বসে বসে এসব খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম, কারণ তখন এ পৃথিবীটা আমার নাগালের বাইরে। কিন্ত কয়েক বছর পরে এসে আমার উভকামিতার কথা ওকে বলতে গিয়ে এসব উধারণ নিজেকে মনে করিয়ে সান্তনা দিতে কষ্ট হচ্ছিলো। অন্য একজন ক্লাসমেটের যৌনতা নিয়ে ওর সমস্যা না থাকলেও, নিজের ভাইয়ের ব্যাপারে কি ঠিক সে একই কথা প্রযোজ্য? কাছের মানুষ হোলে অনেক কিছুই মানতে কষ্ট হয়।


আমার চিন্তার কারণগুলো নিয়ে আমি আগেও অনন্য পোস্টে লিখেছি - ধার্মিক অথবা সামাজিক ভিত্তিতে যৌনতাকে খারাপ চোখে দেখা। আমার চিন্তা ছিলো যে ও হয়তো "ঠিকাছে কিন্তু শুধু মেয়েদের ডেট কোরো" বা এই ধরনের অন্য কোন কথা বলবে। তবে আমি খামাখাই চিন্তা করছিলাম - ও এরক্ষম কোন প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি সেদিন। বরং ওকে বলার পর ও বেশ হাস্যকর ভাবে ফ্রিজ হয়ে যাওয়া রোবোটের ভান করল, আর তারপর বলল ওকে একটু ভাবতে দিতে। আমার ছোট ভাই, যে তখন আমাদের সাথে ছিল দরকারে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য, অপেক্ষা না করতে পেরে পাঁচ মিনিটের মাথায় জিজ্ঞেস করে বসলো যে ভাবা শেষ হয়েছে নাকি। আমাদের বোন হেসে বলল না, এখনও ৬৬% বাকি। কিন্ত আমি বুঝি যে ওর হালকা আচরণের পিছনে ও আসলেই ভাবছে, এবং এ ভাবনা নিয়ে ও আমাকে বাকি দিন ও সাসপেন্স রাখে। 

আমার ভাগ্য ভালো যেয়ে রাত হতে হতে ওর চিন্তা-ভাবনা ৯০% শেষ হয়ে আসে। আমরা এ পর্যায় আমার জীবন, প্রেম ও ভবিষ্যত নিয়ে কথা শুরু করি। আমি যেয়ে অন্য ছেলেদের মতন না সেটা নাকি ও বরাবরই খেয়াল করে আসছে - বিশেষ করে আমি যেহেতু আমাদের সমাজের প্রথাগত নিয়ম-কারণ মেনে চলিনা। ও মোটামোটি অন্য বাংলাদেশীরা সাধারণত যে পরামর্শ দেয় আমাকে যৌনতা নিয়ে সেটাই পুনরাবৃত্ত করলো। বলল বেশির ভাগ মানুষ, এমনকি আমার মা-বাবাও হয়ত বলবে যে আমার উভকামিতা মানসিক রোগ। আমার যৌনতার কথা মানতে তাদের অনেক কষ্ট হবে, যদি বা সেটা তারা কখনো মেনে নিতে পারে। আমি ভবিষ্যতে স্থায়ী ভাবে দেশে থাকতে পারব নাকি সে নিয়েও ও প্রশ্ন তুলল, এবং আমি যখন ওকে বললাম যে আমি খোলাখোলি আমার যৌনতার প্রকাশ করে দেশে থাকতে চাই ও আমার নিরাপত্তার কথা তুলল। তবে এসব প্রশ্নের জবাব আমাদের সেদিন যেমন ছিল না, আজও নেই।    

যতদুর মনে পরে ওই দিনই আমাদের শেষ বিস্তারিত কথা হয় আমার যৌনতা নিয়ে। এবং তারপর থেকে আমাদের সম্পর্ক খুব সামন্যই পাল্টিয়েছে। যেমন আমি এখন যদি ওকে আমার ডেটিং এর কথা বলি ওকে তবে মেয়ে, ছেলে সবার কথাই খুলে বলি। আর আমাদের যদি বাংলাদেশ নিয়ে কথা হয় তাহলে রাজনীতি ও সমাজযের সাথে LGBT বিষয়ক কথা হয়। মাঝে মধ্যে LGBT মানুষের প্রতি অন্য বাংলাদেশীদের বেশ মজার প্রতিক্রিয়ার গল্প শুনি ওর কাছে। গত কয়েক মাস ধরে ও ভার্সিটি আর থিসিস নিয়ে বেশ বেস্ত, তাই আজকাল ওকে আমি একটু কম জালাই। তবে এ বছরের শেষে আমি দেশে যাচ্ছি, এবং আবার আমাদের দেখা হবে। এই কয়েক বছরে আমার জীবনে অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং এর ফল ওকে দেখাতে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। এই সবকিছুর অনেকটার জন্য ওই দায়ী। 


ওর দৃষ্টিকোণ 

LGBT - আমি আসলে কখনই এই শব্দটি সম্পর্কে চিন্তা করি নি বা মনোযোগ দেই নি ... এটা অপ্রাসঙ্গিক ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি জানতে পারলাম আমার নিজের খালাতো ভাই উভকামী!! আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। সে সবসময় আমাদের বয়স অন্যান্য ছেলেদের থেকে একটু ভিন্ন ছিল। আমরা মুসলিম এবং বাংলাদেশী; সুতরাং, এটা সে যে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন ছিল এটা আমার কখনই মনে হয় নি; বরং অন্যান্য ছেলেদের আমার ব্যতিক্রম মনে হত। মনে হত সব ছেলেদের ওর মত হওয়াই  স্বাভাবিক - পোষাক সম্পরকে মন্তব্য, রান্নাএ আগ্রহী। বড় হওয়ার সাথে সাথে ভাবতে শুরু করলাম , আমার ভাই বলে আমার সাথে তার আচরণ হয়ত এমন।

B.......I.......S.......E..........X..........U..........A.........L 

খুব সহজ ভাবে সে আমাকে বলল, "আমি উভকামী " এবং আমার কিছুক্ষণ এর জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম । কি বলব ... কি বলা উচিৎ কিছু ই বুঝছিলাম না। আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ভাল কথা কিন্তু এটা কি করে সম্ভব?? এটা স্বপ্ন না বুঝতে আমার একটি পুরো দিন লাগে। তারপর আমি কিছু দিনের জন্য পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা করি। তারপর আমি বুঝতে পেরেছি; এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।  

আমাদের ধর্ম নাকি LGBT সমর্থন করে না। কিন্তু আমাদের ধর্মে এটাও লেখা আছে যে যারা পরিবারকে অস্বিকার করে তাদের জন্য বেহেস্তের দরজা বন্দ। অনেক মা-বাবা আত্মীয়-স্বজন তাদের কর্তব্য পালন করতে ব্যার্থ হয় কেন? কারণ যার প্রতি তাদের দায়িত্ব সে LGBT। কিন্ত LGBT তো কেউ বেছে নায় না - এটা  তার প্রানের গভীরের সত্য। আমার ভাই তো সবসময় আমার ভাই থাকবে এবং তা কক্ষনই পরিবর্তন হবে না। সুতরাং, সে যেমন ই হক না কেন; আমি অবশ্যই তাকে সমর্থন করবো। হয়ত একদিন সমকামী শব্দের অস্তিত্ব থাকবে না; বরং সবাইকে সমান মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মতামত: সমকামীদের প্রতি বাংলাদেশি মানুষের পতিক্রিয়া

মতামত: সমকামীদের প্রতি বাংলাদেশি মানুষের পতিক্রিয়া


আমাদেরকে নাকি বোমা ফাটিয়ে মেরে ফেলা উচিত

উপডেট (২০ এপ্রিল ২০১৪)ঃ গে স্টার নিউজ নামে একটি ইংরেজি অনলাইন সাইট রিপোর্ট করছে যে এটা ঠিক 'গে প্রাইড প্যারেড' ছিল না। আর্টিকেলটি পড়তে পারবেন এখানে। রূপবান, জারা এ প্যারেডের জন্য দায়ী, তারা বলেছে যে এটা মানুষের মধ্যে যে বৈচিত্রতা ও বন্ধুত্ব হতে পারে সেটা তুলে ধরার জন্য আয়োজিত করা হয়েছিল। আমার মতে এটা তাও খুব ভালো একটা পদক্ষেপ, বিশেষ করে আমাদের দেশের কথা চিন্তা করলে। আমি আমার এই এবং অন্যান্য ব্লগ পোস্টগুলো পাল্টাছি না তবে এ নোটটা উপড়ে দিয়ে রাখছি ইনফর্মেশনের জন্য। এ প্যারেডটা যে 'প্রাইড প্যারেড' ছিল তা আমি ভেবেছিলাম শুধুমাত্র নিউজ ও সোশাল মিডিয়ার পতিক্রিয়া দেখে।

গত মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল আমরা ১৪২১ সালের পহেলা বৈশাখ উদজাপন করলাম, যেমন আমরা করি প্রতি বছর। কিন্তু এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার পরে কিছু মানুষ রংধনুর রঙে রাঙানো ছোট্ট একটি মিছিল বের করেছিল। ঠিক ওই মুহুর্তে জনসাধারণ বুঝতে না পারলেও পরে সবাই ঠিক বুঝতে পারে যে এটা একটি 'সমকামী র‍্যালি' ছিল।এ নিয়ে priyo.com এ একটি লেখাও চাপা হয়েছে। এ লেখা, ফেসবুক, টুইটার ও বিভন্ন ব্লগে অনেক বাংলাদেশী মানুষের বিভিন্ন পতিক্রিয়া প্রকাশ হয়েছে - উপরের ছবির মানুষটির কমেন্টের মতন।

এই কারনেই যারা এ মিছিলের আয়োজন করেছে, তাতে অংশ গ্রহণ করেছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এরখম একটা কাজ করা সাহসের ব্যাপার। আমার আশা ছিল যেয়ে আমার জীবনে দেশকে এ বিষয়ে অগ্রগতি করতে দেখে জাব। এতো তাড়াতাড়ি এরখম জিনিস দেখবো তা ভাবিনি। তবে সাধারণ মানুষের আমাদেরকে গ্রহণ করতে এখনো অনেক দিন বাকি। মানুষজনের কিছু প্রসঙ্গ অনুযায় বেশি 'লাইক' পাওয়া কমেন্ট আমি নিচে (নাম মুছে দিয়ে) ছাপছি - তারা আমাদেরকে নিয়ে কি ভাবে তা দেখানোর জন্যে, এবং তা নিয়ে কিছু কথা বলার জন্য। উপরের কমেন্টি ছাড়া সব কমেন্ট প্রথম পারাতে লিংক দিয়া আর্টিকেল থেকে। 


ধর্ম ও ইসলাম 


মসুলমান হিসেবে আমার হজরত লুতের গল্প অনেক শুনতে হয় 

এ কমেন্টটা এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে। কোরানএ হজরত লুতের কথা লেখা আছে, এবং অনেকেই আমাদের মনে করিয়ে দিতে পছন্দ করে কিভাবে পুরা এক জাতিকে ধংশ করে দেওয়া হয়েছিল সমকামিতার জন্য। কিন্তু সবাই একই সাথে ভুলে যায় যে (১) এখানে পুরুষদের সমকামী ধর্ষণ নিয়ে কথা হয়েছে আর (২) লুতের মানুষের আরো অনেক পাপ ছিল, এবং তাদের শেষ পর্যন্ত শাস্তি হয় এ সব পাপ গুলোর জন্য, এবং আল্লাহর কথা নিন্দা করার জন্য। মানুষ আরো ভুলে যায় যে কোরানের অন্য অংশে এমন লোকেরও কথা লেখা আছে যাদের মহিলাদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নাই। এবং এখানে তো সুধু পুরুষদের নিয়ে কথা হচ্ছে - মহিলা সমকামীদের তাহলে কিভাবে এ সুরা দিয়ে অশিকার করা যায়?



আমরা এদের বিচার করার কে?


এ কমেন্টার যে এতো লাইক তা দেখে আমি খুশি!
প্রথম কমেন্টি খারাপ হোলেও দ্বিতীয় অবস্থানের কমেন্টি ভালো। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে এরক্ষম কমেন্টি সবচেয়ে বেশি লাইক পাবে। আরেকটা কথা যেটা এই কমেন্টার তুলে ধরে হোল কেউ সমকামিদেরকে পছন্দ না করেলও ঘৃনা করার কি আছে - সমকামীরা তো আর ঠিক তার সাথে মিশতে আসবে না! এবং এসব মানুষরা ঠিক কি ভাবে - সমকামীরা কিভাবে সমাজের ক্ষতি করে?


শেষের প্রশ্নটা নিয়ে আসলেই আমাদের ভাবা উচিত - এত  মাথা ঘামানোর কি আছে?
"আপনি পার্সোনালি এতো হস্টাইল কেন ওদের উপর?" - এটা বেশ ভাল একটা প্রশ্ন। মানুষের আমাদের নিয়ে এতো মাথা বেথা কেন? সমকামীরা নিশ্চয় সুধু তাদের নিজেদের মধ্যে অথবা তাদেরকে যারা সাপোর্ট করে তাদের সাথে মিশতে যাবে। যেচে পরে নিশ্চয় সমকামিতা যারা অপছন্দ করে তাদের সাথে বন্ধুত্য করতে আহ্সবে না।


সব আওয়ামী লীগের দোষ


খিক! 
প্রথম এবং তৃতীয় কমেন্ট দুটো পুরোপুরি হাস্যকর, একটু মজার জন্য ছাপলাম!


কোন কমেন্টা বেশি লাইক পেয়েছে তাতে আমি একটু শান্তনা নিচ্ছি 

তবে এটা সত্যি যে এ মুহুর্তে অনেক মানুষ আওয়ামী লীগের উপর অসন্তুষ্ট ইলেকশনের কারণে। তাই বলে সব কিছু তাদের দোষ। তবে আওয়ামী লীগ আসলেই সমকামী অধিকারের পক্ষে নাকি তা আমার জানা নেই। সুধু এটুকু বলতে চাই: বিএনপি-জামাতের এটা কি চোখে দেখবে তা আমার মনে হয়না কারোর সন্দেহ থাকা উচিত।  



পশু ও 'শিশুকামীদের' সাথে তুলোনা

   

এ ধরনের তুলোনা আজীবন দেখে আসছি 

এখানে ঠিক কি বলার আছে? পশুদের সাথে তুলোনা করণ অনেকে বলে পশুরা সমকামী আচরণ দেখায়, এবং তার মানে নিশ্চয় সমকামিতা প্রাকৃতিক। পশুর সাথে আর কি মিল আছে আমাদের জানেন? আমাদের জীবন সাথী খোজা, যৌন প্রজননতা ইত্যাদি - পশুরা এগুলোও করে। আমাদের কি তাহোলে এসব বন্দ করে দেওয়া উচিত? 



কেউ বলতে যায়নি যে আমাদের নগ্ন থাকা উচিত বা সন্তান হত্যা করা উচিত। আমাদের যেয়ে স্তনপায়ী প্রাণীর সাথে কিছু জীবতত্ত্বিক মিল আছে তা বলেছে। এটা বৈজ্ঞানিক সত্য। এবং সমকামিতাও এই মিলগুলির মধ্যের একটা। এটাকে কেন ক্ষতিকর আচরণ ধরা হচ্ছে? এখানে ঠিক কার ক্ষতি হচ্ছে?



আর শিশুকামিতার সাথে কিভাবে তুলোনা হয়? শিশুকামিতা হয়ে দাড়ায় শিশুর ধর্ষণ। এদিকে একজন অ্যাডাল্ট মানুষ যদি আরেকজন অ্যাডাল্ট মানুষের সাথে সম্মিত ভাবে শরীরক সম্পর্কে জরায় সেখানে, আবারও, ক্ষতি কার হচ্ছে? 


এবং ধরে মারো

কি বলব জানি না 
এটার আবার বিশ্লেষণ করার কি। অনেকে এতই অসভ্য যেয়ে তাদের ইচ্ছা মত কিছু না হোলেই কাউকে মারপিট করা দরকার। আমাদের দেশের কি সাধেই এ অবস্থা? এদের জন্নে দেশে এতো খুন-খারাপি, এতো আমরা পিছিয়ে আছি। 

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ৩য় অংশ

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ৩য় অংশ

আমার নিজের উভকামিতা গ্রহণ করতে পারায় আমার মতে আমার জীবন আগের চেয়ে সম্পূর্ণ  হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমার এ পর্যায় পৌছাতে দীর্ঘ ৮ বছর সময় লেগেছে। 

আমার নিজের যৌনতা কে স্বীকৃতি দেয়া আমি প্রথম শুরু করি ইংল্যাণ্ডে আসার পর। ইংল্যাণ্ডের হাই স্পিড ইন্টারনেট আবিষ্কার করার পর আমার মনে হতে থাকে পৃথিবীর সব তথ্যই যেন আমার হাতের মুঠোয়। আমি ইন্টারনেটের মধ্যমে আবারও ফরাসী শেখা শুরু করি, লিনাক্স নিয়ে গবেষণা করা শুরু করি। সময়ের সাথে আমি সমকামী অধিকার, সমতা এবং এ সব নিয়ে যে আলোচনা চলে ইন্টারনেটে তা খুঁজে পাই। সুস্থ, সাবলীল রোমান্টিক সমকামী সম্পর্কের কথা এ প্রথম আমি জানতে পারি। এ প্রথম আমার সামনে সমকামী সম্পর্ক ভাল হিশেবে কেউ তুলে ধরে।

আমার জীবনের অনান্য অংশ এ সময় ভালোই চলছিল। আমি এক সাথে আমার পড়াশোনা, বন্ধু-বান্ধব দের সাথে মেলামেশা করা এমন কি কয়েক ঘন্টার জন্য একটা ছোট-খাটো চাকরিও করছিলাম। আমার যৌনতা আমি তখনো গোপন করে রেখেছিলাম, কিন্তু এটা তখন পুরপরি অভ্যেস হয়ে গেছিলো। সব বাস্ততার মধ্যে আমি আমার যৌনতা নিয়ে খুব একটা চিন্তা ভাবনাও করতাম না। কিন্তু মাঝে মাঝে রাতে একা আমি ভাবতাম আমার জীবনে কি কি সম্ভব। চিন্তা করতাম আমি নিজের পায়ে দাড়ানোর পর সবাই কে ছেড়ে, চেনা-জানা মানুষেদের থেকে দুরে গিয়ে কোথাও আমার নিজের যৌনতা নিয়ে নিজের মতন থাকব নাকি। যদিও ইংল্যান্ডে আসার পর আমি অনেকের থেকে দুরে ছিলাম, আমার ইউনিভার্সিটি জীবনের নতুনতার কারণে এসব গবেষণা করাটা অতটা তখন দরকারী মনে হয়নি। তার অপর আমার এক্স-গার্লফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমার উভকামিতা নিয়ে আম্মি চিন্তা ভাবনা আরও কম করা শুরু করি। আমার এক্স-গার্লফ্রেন্ডের সাথে আমার সম্পর্ক চলে ঠিক ভার্সিটির ফাইনাল ইআর পর্যন্ত। আমাদের সম্পর্ক শেষ না ওয়া পর্যন্ত আমি তাকে আমার উভকামিতা লুকিয়ে রাখি, এবং এ নিয়ে আমি এখনো লজ্জিত। 

তবে আমাদের সম্পর্ক চলাকালীন আমি মনে করেছিলাম যে আমি সারা জীবন আমার উভকামিতা লুকিয়ে রাখতে পারব। আমার নিজের কাছে যুক্তি ছিল যে যেহেতু আমি একজন মেয়ের সাথে এভাবে একটা পরিতৃপ্ত সম্পর্কে জড়াতে পেরেছি, তার মানে আমার ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক এক পর্যায় ভেঙ্গে যায়, এবং আমি একটা নতুন শহরে চলে যাই তিন মাসের ইন্টার্নশীপের জন্য। একা এই নতুন জাগায় আমি সময় পাই নিজেকে নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করার। আমি এরপর ফেরত যাই ইউনিভার্সিটিতে আমার নিজের উভকামিতার সাথে মুখোমুখি হবার সিধান্ত নিয়ে। কেউ যদি এখানে যৌনতার ইসলামী ব্যাখা বা অনুমোদন খুঁজে থাকেন, তাদের কাছে আমি দুক্ষ প্রকাশ করছি - এ পোস্টে আমি সেটা দিতে পারছি না। আমার নিজেকে গ্রহণ করাটা পুরোপুরি ধার্ক্মিক ব্যাপার ছিল না। এটা লিখে বোঝানো বেশ কঠিন ব্যাপার, তাও আবার বাংলায় লেখা আমার জন্য আরো কঠিন। আমি আমার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে বুঝি যে এত বড় একটা জিনিস এভাবে লুকিয়ে, চেপে রাখা মানসিক স্বাস্থের জন্য ভালো না। এত বছর ধরে আমার উভকামিতা নিয়ে বেচে থেকে আমি বুঝি যে এটা আমার মানুষ হিসেবে গঠনের একটি অংশ, এবং সময়ের সাথে এটা পাল্টাবে না। হ্যা, আমি ছেলদের প্রতি আমার আকর্ষণ লুকিয়ে শুধু মেয়েদের উপর মনোযোগ দিতে পারি, কিন্তু তাই বলে আমার ছেলেদের প্রতি আকর্ষণ চলে যাবে না। একই সাথে আমি এটাও এতদিন বুঝতে পারি যে আমার উভকামিতার কারণে যে আমি সবার মতন সামাজিক কর্তব্য পালন করতে পারব না তা না, এবং আমি যে অন্য কাউকে ক্ষতি করছি তাও না। আমি বেশ দৃঢ় ভাবে নিজেকে বলি যে আমার এই রখম হওয়াটা কোন খারাপ জিনিস না, এবং নিজেকে গ্রহণ করার সিধান্ত নিয়ার পর আমার জীবনটা মনে মনে অন্থত অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে। 

এই উপলব্ধির পর আমার অনেকটা মানসিক শান্তি আসে এবং দৈনন্দিন জীবন খানিকটা সহজ হয়ে ওঠে। এমনকি আমার মনে হয় আমি অনেক দিন পর আমার নিজের জীবন ঠিক মতন উপভোগ করতে পারছি, এবং আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক আরো আন্তরিক হয়ে ওঠে আমার পক্ষ থেকে। আমি ধীরে ধীরে ইন্টার্নশীপএ দেখা হওয়া কিছু মানুষকে বলা শুরু করি যে আমি উভকামী। তারা কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া না দেখানো তে আমার আত্মবিশ্বাস বারে। আমি আমার কাছের বন্ধুদের বলার পরিকল্পনা করি, বিশেষ করে যারা আমার মতে খবরটা খারাপ চোখে দেখবে না। আমি যৌনতার উপর ইসলামের বিভিন্ন মতামত খুঁজে বের করার চেষ্টা, ভালো ও খারাপ দুটোই যাতে আমি নিজে আমার ধার্মিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারি। মানুষজন হজরত লুতের কথা বলে অনেক, এবং আমি খুব একটা অবাক হয়েনি যে সমকামিতার প্রতি মানুষের খোব কতটা নিজেদের মতন অর্থ বের করে নেয়ার প্রতি নির্ভরশীল। আমি এর সাথে সমকামীতা সমর্থ করা অনেক তথ্যও খুঁজে পায়, এবং এসব আমার লিংক ও অনান্য তথ্য পেজ এ লিখে রাখা আছে। আমি ইউনিভার্সিটিতে একটা কাউন্সেলিং গ্রুপ খুঁজে বের করে সেটাতে যোগ দেই - আমার মতন আরো মানুষের সাথে যোগাযোগ করে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আহ্সায়।

সেই দিন থেকে আমার জীবন মোটামোটি ভালোই কাটছে। আমার বেশির ভাগ বন্ধু-বান্ধব এবং কিছু পরিবারের সদস্য জানে আমার উভমাকিতার ব্যাপারে। আমি এখন তাদের ব্যাপারে লিখতে চাই, এবং এটাই আমার শেষ এই ধরনের পোস্ট। জানি অনেক দেরিতে শেষ করলাম! 
আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ২য় অংশ

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ২য় অংশ

আমি তের বছর বয়েস থেকেই আমার যৌনতা নিয়ে অনেক কষ্টে ছিলাম। আমি ওই সময়ে উভকামিতা শব্দটা ইংরেজিতে না জানলেও জানতাম নিশ্চিত ভাবে যে আমি দুই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ বধ করি। কিন্তু আমি নিজের এ রুপ বেশ অনেক বছর ধরে গ্রহন করতে পারি না। আমি শুরুতে ভাবতাম যে আমি আমার পুরুষ মানুষের প্রতি আকর্ষণ লুকিয়ে রাখতে পারব, এবং অন্য মানুষেরা জারা সম লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট না তাদের মতনই জীবন জাপন করে জেতে পারব।

আমি এইরখম চিন্তা ভাবনা নিয়েই আবার ইউরোপে আসি কয়েক বছর পর আমার পরিবারের সঙ্গে। ইউরপেই আমি প্রথম বাইসেক্সুয়াল শব্দটি শিখি, এবং বুঝি যে এটা আমাকে বর্ণন করে। আমার নিজের প্রক্রিতির জন্য একটা বিশেষ শব্দ আবিশকার করার পর আমার অবশেষে নিজের যৌনতার সাথে মুখমুখি হতে হয়। আমি আমার আকর্ষণ পরীক্ষা করতে গিয়ে বুঝি যে ব্যাপারটা আমার জন্য কতটা বিভ্রান্তিকর। আমি শুধু এইটুকুর ব্যাপারে সহজে লিখতে পারি - যে আমি দুই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ বধ করি। এর বাইরে আমার আকর্ষণের কথা আমার পক্ষে বুঝিয়ে বলা, সেটা ইংরেজিতে হোক বা বাংলায় হোক,বেশ কঠিন। আমি এখন শুধু এটুকুই বলতে চাই - যে আমার দুই লিঙ্গের প্রতি যে আকর্ষণ সেটা ক্রমশ বারে-কমে। এটা আমার জন্য আগে বেশ নৈরাশার কারন ছিল। এখন অবশ্য আমি আমার আকর্ষণের প্রক্রিতি নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং আমার মহিলা অথবা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ কেন বারে-কমে তাও অনেকটা বুঝি। আমি এখানে এতটুকুই লিখতে চাই, এবং আমি খুব সম্ভবত এ নিয়ে পরে পুর আরেকটা পোস্ট লিখব।


যাই হোক, যৌনতা এবং আকর্ষণ নিয়ে আমার বিভ্রান্তি বেশ কয়েক বছর ধরে ছলে, এবং এই বিভ্রান্তি আমার নিজেকে গ্রহন করতে পারার পথে রুক্ষে দারায়। কিন্ত আমার সব সমস্যা যে শুধুই আমার মনের ভেতর ছিল তা না, আমার বাড়িতেও আন্যান্য সমস্যা মোকাবেলা করতে হত। আমার আব্বু-আম্মু কখনো সমকামভীতির আচারণ না করলেও তাদের কিছু কিছু বিশ্বাস খুবি নিয়ন্ত্রণমূলক ছিল। তারা আমাকে বলত যে আমার ভবিষ্যতে একি ধর্মের এবং সমাজের একজন মেয়ে কে বিয়ে করা উচিত। অবশ্যই বড় হওয়ার পরে, হয়তো ২৪ বছর বয়সে। এবং এর আগে কোন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জরানো উচিত না...শুধুই হাত-পা গুটিয়ে বশে থাকা উচিত। আমার ভাজ্ঞ ভাল যে আমার জীবন তাদের এ মতামত ধরে চলেনি, এবং এখনো চলছে না। আমি চোদ্দ বছর বয়েসে আমার প্রথম গারলফ্রেন্ড কে ডেট করে শুরু করি। আমার বেশ কয়েকে দিন ভালই কাটে, এবং আমার গারলফ্রেন্ড কে ডেট করার সময় আমার পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনেকই কমে যায়। কিন্তু আমার যে গার্লফ্রেন্ড আছে এটা এক পর্যায় আমার আব্বু-আম্মু বুঝে ফেলে। তারা যে এ খবর জানতে পেরে খুব রাগ করে এবং তখনই আমার অনেক ধরণের সমস্যা শুরু হয়। আমার এখন আর খেয়াল নেই আব্বু-আম্মু আমাকে আমার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঠিক কি কি বলেছিল, কিন্তু এক পর্যায় তারা আমাকে সাবধান করে যে আমি যে একজন সাদা চামড়ার মেয়ে কে ডেট করছি এ জন্য আমাকে যে কোন মুহূর্তে অন্য সাদা চামড়ার মানুষেরা রাস্তায় পিটিয়ে মেরে রেখে যেতে পারে। আমার আব্বু-আম্মু যে ভাবে আমরা এখনো জাতিবিদ্বেষ আফ্রিকায় বাশ করি এ কথাটা আমার নিজের মাথায় ঢুকতে না ঢুকতেই তারা আমাকে জিজ্ঞেশ করে বশে যে আমি এ মেয়ে কি পরিবার থেকে আসে তা না জেনেই কিভাবে তাকে ডেট করা শুরু করি। এবং আমি যখনই চিন্তা করা শুরু করি যে এরা আমাকে শাস্তি হিশাবে এ মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে নাকি, তারা আমাকে বলে যে পনের বছরের বাচ্চাদের কোন সম্পর্কে জড়ান উচিত না, আর বয়ঃসন্ধিকালীন অনুভতি ও আকর্ষণের কথা বাত্রা পুরপুরি এরিয়ে যায়।



আমি আমার পোস্টটা একটু হাস্যকর ভাবে লেখার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমার এখনো আমার আব্বু-আম্মু তখন যে সমস্ত কথা বলেছিল তা মনে পরলে বেশ খারাপ লাগে। রাগে তাদের অনেক বর্ণ ও শ্রেণি ভিত্তিক কুসংস্কার বেরিয়ে আসে। শুধু তাই না, তাদের ভাব ভঙ্গি এমনই ছিল যেন তারা জানতো না যে তখনকার কমবয়সী ছেলে মেয়েরা কিভাবে চলাফেরা করত, এবং আমি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বড় হওয়ার ফলে আমি কি ধরণের মানসিকতার মানুষ হতে পারি। আমার অবশ্য এটা বলতে হয় যে আমার আব্বু-আম্মু ওইরখম আচার-আচারণ এখন আর করে না। আমার আম্মু এখন অনেকটাই মেনে নিয়েছে যে আমার নিজের মানসিকতা সাধারণ বাংলাদেশী সাংস্কৃতির থেকে অনেকই ভিন্ন, এবং আমার আব্বু আন্তত এটা স্বীকার করে যে আমার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত আমার নিজেরই নিয়া উচিত। কিন্তু তখনকার সব ঘটনার পর আমি আমার আব্বু-আম্মুর প্রতি অনেক সম্মান ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। এতদিন পর আমাদের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেকই ভাল, কিন্তু বিশ্বাস আমি এখনও তাদেরকে করিনা। বলার কোন উপেক্ষা রাখেনা যে আমার আব্বু-আম্মু জানার পর ওই মেয়ে এবং আমার খুব দ্রুত ব্রেক-আপ হয়ে যায়। এবং তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞেশ করি - একটা বিদেশী মেয়ের ব্যাপারেই যদি তারা এই রখম প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে একটা ছেলের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেকে মনের ভিতরও দেয়ার কোন দরকার হয় না।

আমার জন্য বাড়ির বাইরের অবস্থা অত জটিল ছিল না। আমি সবার কাছ থেকে আমার যৌনতার কথা লুকিয়ে রাখতাম, কিন্তু এ কারনে আমার স্কুলে এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে মিশ্তে কখনও তেমন কোন সমস্যা হত না। স্কুলে তেমন কোন সমকামভীতি ছিল না, একটা কি দুইটা ছেলেকে অনেকে সমকামি ভাবলেও তাদেরকে কেউ খুব একটা জ্বালাতন করত না। এমন কি আমাদের যৌন শিক্ষার একটা ক্লাসে খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে এক পর্যায় আমাদের পুরুষ সমকামিতার কথা বলা হয়। এটা আমার সমকামিতার ব্যাপারে যতখানি শিক্ষা দরকার ছিল সেটা প্রদান না করলেও এমন একটা ভাব তৈরি যে সবার চেয়ে অন্য রখম হওয়াতে কোন ভুল নাই। এবং আমি এখন মোটামোটি নিশ্চিত যে আমার তখনকার বেশীর ভাগ বন্ধুবান্ধবই আমার উভকামিতা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাত না। অনেকেরই অন্য LGBTQ বন্ধুবান্ধব ছিল, এবং তাদের ব্যাপারে হয়তো নূতনত্ব নিয়ে কথা বলত কিন্ত কখনও কুসংস্কার নিয়ে না। কিন্তু এ সমস্ত প্রসঙ্গ আমাদের কারোর জন্যই তখন অতটা বড় কিছু ছিল না, এবং মিডিয়াতেও তখন এ প্রসঙ্গ নিয়ে অতটা লেখা লেখা হত না। এ সবের সাথে এটাও সত্যি যে আমি যেহেতু আমার যৌনতা তখন লুকিয়ে রাখতাম, আমি এসব বিষয় এড়িয়ে চলতাম। আমার এখন ধারণা যে এ কারনেই আমি ইউরোপে থাকতে কারোর কাছ থেকে কোন সাহায্য চাই নি, যদিও আমি ওখানে খুব সম্ভবত সাহায্য পেতাম।


এক বছর পর আমরা ইউরোপ থেকে আবার দেশে চলে আশি, এবং আমি আবার নতুন করে কলেজ শুরু করি। দেশে কলেজেই আমি প্রথম আমার সমকামি আকর্ষণ নিয়ে ইসলাম কি বলে সেটা আবিষ্কার করার চেষ্টা করি। তবে আমি যে ইসলামের সমকামিতা নিয়ে মতামত বোঝার খুব কঠিন চেষ্টা করি তা নয়। কলেজে একবার কি দুবার সমকামিতা নিয়ে কথা হয়, এবং তখন আমার বন্ধুবান্ধবরা কোরান সম্পর্কে যা জানে বা শুনেছে সেই প্রেক্ষাপটে সমকামিতা কেন ভুল তা নিয়ে কিছু কথা বলে। এটা এমন কোন বড় ঘটনা ছিল না, কিন্তু আমি এই থেকেই আমার ইসলাম ও সমকামিতার সব মতামত গরে তোলা শুরু করি। আমি নিজেকে ব্যাপারটা এভাবে বুঝিয়ে বলিঃ ইসলামের চোখে বিয়ের বাইরে একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করা ভুল। এর উপর বিয়ে শুধু সম্ভব মহিলা এবং পুরুষের মধ্যে। তার মানে ইসলামের চোখে দুজন মহিলা বা দুজন পুরুষের কখনই কোন বৈধ দাম্পত্যর সম্পর্ক থাকতে পারে না। এ কথা গুলো ঠিক না ভুল তার বিশ্লেষণ এখানে করতে চাই না - আমি তখন কি ভাবতাম শুধ সেটা লিখছি। এখন যদি আমি তখনকার কথা মনে করে দেখি, আমি খেয়াল করি যে আমি পুরপুরি সমকামি মানুষের বিয়ে বা তাদের মাঝে প্রেম, ভালোবাসা ও আন্যান্য অনুভূতির কথা পাশ কেটে গেছিলাম, এবং এসব নিয়ে কোরান এ কিছু লেখা আছে নাকি না সেটাও খুজে বের করার চেষ্টা তখন করিনি। আমি শুধুই সেক্সের প্রেক্ষাপটে সমকামি সম্পর্কের কথা ভেবে দেখেছিলাম, এবং ধরে নিয়েছিলাম যে সমকামি সম্পর্ক ভুল কারন সমকামি সেক্স ইসলামে কখনও ঠিক হতে পারে না। এর চেয়ে গভিরে যাওয়ার চেষ্টা আমি করিনি। হ্যাঁ, আমার কিছু ভয় ছিল যে আমি এ নিয়ে যা উত্তর পাব তা আমার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার সাথে এটাও সত্যি - আমি তখন ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না, এবং এতো সব কিছুর উত্তর আমার বের করতে গেলে আমার আবশ্যই কারোর সাহায্য নিতে হত। আর এ থেকে হয়তো করোর আমার ব্যাপারে সন্দেহ জাগত। আমি এ ঝুকিতে না জেতে চাওয়ার জন্যও এ পথ ধরে বেশি দূর তখন এগিয়ে যাই নি।


আমি আর একটা বিষয়ে উপর কথা বলে এ পোস্ট শেষ করতে চাই। আমার এখন মনে হয় যে আমার সেক্সের প্রেক্ষাপটে সব কিছু দেখার করন ছিল যে আমি তখন সমকামিতার ব্যাপারে যা জানতাম সব কিছুই দুঃখজনক ভাবে পর্ণ থেকে আসত। আমি যেহেতু তখন ভাবতাম আমার আকর্ষণের সমকামি অংশটুকু ভুল, আমি এ দিকে ঘেরতাম মাঝে সাঁঝে শুধুই শারীরিক, যৌন তৃপ্তির জন্য। এবং এ কারনে সমকামিতার ব্যাপারে আমার অন্য কিছু জানা হয়েছিল না ওই পরজায় আমার LGBTQ শঙ্ক্রান্ত সব গ্যান ছিল পর্ণ থেকে আসা। এটা অবশ্যই আমার জন্য কোন ভাল অবস্থা ছিল না। আমার যদি ওই বয়েসে অন্য কোন ধরনের নির্দেশন থাকত, আমি হয়তো আমার যৌনতার ব্যাপারটার আরও আগে ভাল মতন বুঝতে পারতাম। কিন্ত আমি যেহেতু এ নির্দেশন না পাওয়ার ফলে আমি আরও বেশ কয়েক বছর ধরে নিজেকে গ্রহন করতে ব্যর্থ হই।
আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ২য় অংশ

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ২য় অংশ



আমি তের বছর বয়েস থেকেই আমার যৌনতা নিয়ে অনেক কষ্টে ছিলাম। আমি ওই সময়ে উভকামিতা শব্দটা ইংরেজিতে না জানলেও জানতাম নিশ্চিত ভাবে যে আমি দুই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ বধ করি। কিন্তু আমি নিজের এ রুপ বেশ অনেক বছর ধরে গ্রহন করতে পারি না। আমি শুরুতে ভাবতাম যে আমি আমার পুরুষ মানুষের প্রতি আকর্ষণ লুকিয়ে রাখতে পারব, এবং অন্য মানুষেরা জারা সম লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট না তাদের মতনই জীবন জাপন করে জেতে পারব।


আমি এইরখম চিন্তা ভাবনা নিয়েই আবার ইউরোপে আসি কয়েক বছর পর আমার পরিবারের সঙ্গে। ইউরপেই আমি প্রথম বাইসেক্সুয়াল শব্দটি শিখি, এবং বুঝি যে এটা আমাকে বর্ণন করে। আমার নিজের প্রক্রিতির জন্য একটা বিশেষ শব্দ আবিশকার করার পর আমার অবশেষে নিজের যৌনতার সাথে মুখমুখি হতে হয়। আমি আমার আকর্ষণ পরীক্ষা করতে গিয়ে বুঝি যে ব্যাপারটা আমার জন্য কতটা বিভ্রান্তিকর। আমি শুধু এইটুকুর ব্যাপারে সহজে লিখতে পারি - যে আমি দুই লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকর্ষণ বধ করি। এর বাইরে আমার আকর্ষণের কথা আমার পক্ষে বুঝিয়ে বলা, সেটা ইংরেজিতে হোক বা বাংলায় হোক,বেশ কঠিন। আমি এখন শুধু এটুকুই বলতে চাই - যে আমার দুই লিঙ্গের প্রতি যে আকর্ষণ সেটা ক্রমশ বারে-কমে। এটা আমার জন্য আগে বেশ নৈরাশার কারন ছিল। এখন অবশ্য আমি আমার আকর্ষণের প্রক্রিতি নিয়ে সন্তুষ্ট, এবং আমার মহিলা অথবা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ কেন বারে-কমে তাও অনেকটা বুঝি। আমি এখানে এতটুকুই লিখতে চাই, এবং আমি খুব সম্ভবত এ নিয়ে পরে পুর আরেকটা পোস্ট লিখব।


যাই হোক, যৌনতা এবং আকর্ষণ নিয়ে আমার বিভ্রান্তি বেশ কয়েক বছর ধরে ছলে, এবং এই বিভ্রান্তি আমার নিজেকে গ্রহন করতে পারার পথে রুক্ষে দারায়। কিন্ত আমার সব সমস্যা যে শুধুই আমার মনের ভেতর ছিল তা না, আমার বাড়িতেও আন্যান্য সমস্যা মোকাবেলা করতে হত। আমার আব্বু-আম্মু কখনো সমকামভীতির আচারণ না করলেও তাদের কিছু কিছু বিশ্বাস খুবি নিয়ন্ত্রণমূলক ছিল। তারা আমাকে বলত যে আমার ভবিষ্যতে একি ধর্মের এবং সমাজের একজন মেয়ে কে বিয়ে করা উচিত। অবশ্যই বড় হওয়ার পরে, হয়তো ২৪ বছর বয়সে। এবং এর আগে কোন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জরানো উচিত না...শুধুই হাত-পা গুটিয়ে বশে থাকা উচিত। আমার ভাজ্ঞ ভাল যে আমার জীবন তাদের এ মতামত ধরে চলেনি, এবং এখনো চলছে না। আমি চোদ্দ বছর বয়েসে আমার প্রথম গারলফ্রেন্ড কে ডেট করে শুরু করি। আমার বেশ কয়েকে দিন ভালই কাটে, এবং আমার গারলফ্রেন্ড কে ডেট করার সময় আমার পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনেকই কমে যায়। কিন্তু আমার যে গার্লফ্রেন্ড আছে এটা এক পর্যায় আমার আব্বু-আম্মু বুঝে ফেলে। তারা যে এ খবর জানতে পেরে খুব রাগ করে এবং তখনই আমার অনেক ধরণের সমস্যা শুরু হয়। আমার এখন আর খেয়াল নেই আব্বু-আম্মু আমাকে আমার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঠিক কি কি বলেছিল, কিন্তু এক পর্যায় তারা আমাকে সাবধান করে যে আমি যে একজন সাদা চামড়ার মেয়ে কে ডেট করছি এ জন্য আমাকে যে কোন মুহূর্তে অন্য সাদা চামড়ার মানুষেরা রাস্তায় পিটিয়ে মেরে রেখে যেতে পারে। আমার আব্বু-আম্মু যে ভাবে আমরা এখনো জাতিবিদ্বেষ আফ্রিকায় বাশ করি এ কথাটা আমার নিজের মাথায় ঢুকতে না ঢুকতেই তারা আমাকে জিজ্ঞেশ করে বশে যে আমি এ মেয়ে কি পরিবার থেকে আসে তা না জেনেই কিভাবে তাকে ডেট করা শুরু করি। এবং আমি যখনই চিন্তা করা শুরু করি যে এরা আমাকে শাস্তি হিশাবে এ মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে নাকি, তারা আমাকে বলে যে পনের বছরের বাচ্চাদের কোন সম্পর্কে জড়ান উচিত না, আর বয়ঃসন্ধিকালীন অনুভতি ও আকর্ষণের কথা বাত্রা পুরপুরি এরিয়ে যায়।



আমি আমার পোস্টটা একটু হাস্যকর ভাবে লেখার চেষ্টা করছি, কিন্তু আমার এখনো আমার আব্বু-আম্মু তখন যে সমস্ত কথা বলেছিল তা মনে পরলে বেশ খারাপ লাগে। রাগে তাদের অনেক বর্ণ ও শ্রেণি ভিত্তিক কুসংস্কার বেরিয়ে আসে। শুধু তাই না, তাদের ভাব ভঙ্গি এমনই ছিল যেন তারা জানতো না যে তখনকার কমবয়সী ছেলে মেয়েরা কিভাবে চলাফেরা করত, এবং আমি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বড় হওয়ার ফলে আমি কি ধরণের মানসিকতার মানুষ হতে পারি। আমার অবশ্য এটা বলতে হয় যে আমার আব্বু-আম্মু ওইরখম আচার-আচারণ এখন আর করে না। আমার আম্মু এখন অনেকটাই মেনে নিয়েছে যে আমার নিজের মানসিকতা সাধারণ বাংলাদেশী সাংস্কৃতির থেকে অনেকই ভিন্ন, এবং আমার আব্বু আন্তত এটা স্বীকার করে যে আমার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত আমার নিজেরই নিয়া উচিত। কিন্তু তখনকার সব ঘটনার পর আমি আমার আব্বু-আম্মুর প্রতি অনেক সম্মান ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। এতদিন পর আমাদের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেকই ভাল, কিন্তু বিশ্বাস আমি এখনও তাদেরকে করিনা। বলার কোন উপেক্ষা রাখেনা যে আমার আব্বু-আম্মু জানার পর ওই মেয়ে এবং আমার খুব দ্রুত ব্রেক-আপ হয়ে যায়। এবং তখন আমি নিজেকে জিজ্ঞেশ করি - একটা বিদেশী মেয়ের ব্যাপারেই যদি তারা এই রখম প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে একটা ছেলের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেকে মনের ভিতরও দেয়ার কোন দরকার হয় না।

আমার জন্য বাড়ির বাইরের অবস্থা অত জটিল ছিল না। আমি সবার কাছ থেকে আমার যৌনতার কথা লুকিয়ে রাখতাম, কিন্তু এ কারনে আমার স্কুলে এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে মিশ্তে কখনও তেমন কোন সমস্যা হত না। স্কুলে তেমন কোন সমকামভীতি ছিল না, একটা কি দুইটা ছেলেকে অনেকে সমকামি ভাবলেও তাদেরকে কেউ খুব একটা জ্বালাতন করত না। এমন কি আমাদের যৌন শিক্ষার একটা ক্লাসে খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে এক পর্যায় আমাদের পুরুষ সমকামিতার কথা বলা হয়। এটা আমার সমকামিতার ব্যাপারে যতখানি শিক্ষা দরকার ছিল সেটা প্রদান না করলেও এমন একটা ভাব তৈরি যে সবার চেয়ে অন্য রখম হওয়াতে কোন ভুল নাই। এবং আমি এখন মোটামোটি নিশ্চিত যে আমার তখনকার বেশীর ভাগ বন্ধুবান্ধবই আমার উভকামিতা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাত না। অনেকেরই অন্য LGBTQ বন্ধুবান্ধব ছিল, এবং তাদের ব্যাপারে হয়তো নূতনত্ব নিয়ে কথা বলত কিন্ত কখনও কুসংস্কার নিয়ে না। কিন্তু এ সমস্ত প্রসঙ্গ আমাদের কারোর জন্যই তখন অতটা বড় কিছু ছিল না, এবং মিডিয়াতেও তখন এ প্রসঙ্গ নিয়ে অতটা লেখা লেখা হত না। এ সবের সাথে এটাও সত্যি যে আমি যেহেতু আমার যৌনতা তখন লুকিয়ে রাখতাম, আমি এসব বিষয় এড়িয়ে চলতাম। আমার এখন ধারণা যে এ কারনেই আমি ইউরোপে থাকতে কারোর কাছ থেকে কোন সাহায্য চাই নি, যদিও আমি ওখানে খুব সম্ভবত সাহায্য পেতাম।


এক বছর পর আমরা ইউরোপ থেকে আবার দেশে চলে আশি, এবং আমি আবার নতুন করে কলেজ শুরু করি। দেশে কলেজেই আমি প্রথম আমার সমকামি আকর্ষণ নিয়ে ইসলাম কি বলে সেটা আবিষ্কার করার চেষ্টা করি। তবে আমি যে ইসলামের সমকামিতা নিয়ে মতামত বোঝার খুব কঠিন চেষ্টা করি তা নয়। কলেজে একবার কি দুবার সমকামিতা নিয়ে কথা হয়, এবং তখন আমার বন্ধুবান্ধবরা কোরান সম্পর্কে যা জানে বা শুনেছে সেই প্রেক্ষাপটে সমকামিতা কেন ভুল তা নিয়ে কিছু কথা বলে। এটা এমন কোন বড় ঘটনা ছিল না, কিন্তু আমি এই থেকেই আমার ইসলাম ও সমকামিতার সব মতামত গরে তোলা শুরু করি। আমি নিজেকে ব্যাপারটা এভাবে বুঝিয়ে বলিঃ ইসলামের চোখে বিয়ের বাইরে একজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করা ভুল। এর উপর বিয়ে শুধু সম্ভব মহিলা এবং পুরুষের মধ্যে। তার মানে ইসলামের চোখে দুজন মহিলা বা দুজন পুরুষের কখনই কোন বৈধ দাম্পত্যর সম্পর্ক থাকতে পারে না। এ কথা গুলো ঠিক না ভুল তার বিশ্লেষণ এখানে করতে চাই না - আমি তখন কি ভাবতাম শুধ সেটা লিখছি। এখন যদি আমি তখনকার কথা মনে করে দেখি, আমি খেয়াল করি যে আমি পুরপুরি সমকামি মানুষের বিয়ে বা তাদের মাঝে প্রেম, ভালোবাসা ও আন্যান্য অনুভূতির কথা পাশ কেটে গেছিলাম, এবং এসব নিয়ে কোরান এ কিছু লেখা আছে নাকি না সেটাও খুজে বের করার চেষ্টা তখন করিনি। আমি শুধুই সেক্সের প্রেক্ষাপটে সমকামি সম্পর্কের কথা ভেবে দেখেছিলাম, এবং ধরে নিয়েছিলাম যে সমকামি সম্পর্ক ভুল কারন সমকামি সেক্স ইসলামে কখনও ঠিক হতে পারে না। এর চেয়ে গভিরে যাওয়ার চেষ্টা আমি করিনি। হ্যাঁ, আমার কিছু ভয় ছিল যে আমি এ নিয়ে যা উত্তর পাব তা আমার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার সাথে এটাও সত্যি - আমি তখন ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না, এবং এতো সব কিছুর উত্তর আমার বের করতে গেলে আমার আবশ্যই কারোর সাহায্য নিতে হত। আর এ থেকে হয়তো করোর আমার ব্যাপারে সন্দেহ জাগত। আমি এ ঝুকিতে না জেতে চাওয়ার জন্যও এ পথ ধরে বেশি দূর তখন এগিয়ে যাই নি।


আমি আর একটা বিষয়ে উপর কথা বলে এ পোস্ট শেষ করতে চাই। আমার এখন মনে হয় যে আমার সেক্সের প্রেক্ষাপটে সব কিছু দেখার করন ছিল যে আমি তখন সমকামিতার ব্যাপারে যা জানতাম সব কিছুই দুঃখজনক ভাবে পর্ণ থেকে আসত। আমি যেহেতু তখন ভাবতাম আমার আকর্ষণের সমকামি অংশটুকু ভুল, আমি এ দিকে ঘেরতাম মাঝে সাঁঝে শুধুই শারীরিক, যৌন তৃপ্তির জন্য। এবং এ কারনে সমকামিতার ব্যাপারে আমার অন্য কিছু জানা হয়েছিল না ওই পরজায় আমার LGBTQ শঙ্ক্রান্ত সব গ্যান ছিল পর্ণ থেকে আসা। এটা অবশ্যই আমার জন্য কোন ভাল অবস্থা ছিল না। আমার যদি ওই বয়েসে অন্য কোন ধরনের নির্দেশন থাকত, আমি হয়তো আমার যৌনতার ব্যাপারটার আরও আগে ভাল মতন বুঝতে পারতাম। কিন্ত আমি যেহেতু এ নির্দেশন না পাওয়ার ফলে আমি আরও বেশ কয়েক বছর ধরে নিজেকে গ্রহন করতে ব্যর্থ হই।
আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ১ম অংশ

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ১ম অংশ

আমার লেখার বিষয় হবে বিভিন্ন মানুষকে আমার যৌন আবেদনের কথা খুলে বলা এবং তাদের এ বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ে। কিন্তু মানুষের সাথে এভাবে কথা বলা আমি কেবল মাত্র কয়েক মাস হল শুরু করেছি। আমার মতে আমার জীবনের এ পর্যায় পৌছানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও আমার কিছু কথা বলা উচিত। এই কারনে আমার এই পোস্ট আর এর পরের কয়েকটি পোস্ট লিখব আমার ছোটবেলা নিয়ে, এবং আমি আমার নিজের উভকামিতা কিভাবে গ্রহন করলাম তা নিয়ে।

আমি বারো বা তের বছর বয়সে বুঝতে পারি যে আমার যৌন আকর্ষণ অন্য সবার মতন না। আমার এ বাস্তবতার মুখো মুখি হতে হয় দুঃখজনক ভাবে ইন্টারনেট ও পর্ণগ্রাফির কারনে। আমরা তখন থাকি এশিয়ার এক দেশে, এবং ওই বয়সে আমাদের বাসায় প্রথম ইন্টারনেট নেয়া হয়। তবে তখন ছিল ডায়েল আপ কানেকশনের যুগ, এবং ইন্টারনেট আশা মানে এই না যে আমি শব সময় পর্ণগ্রাফি দেখে বেরাতাম। তাও আবার কম্পিউটার টি ছিল আব্বু-আম্মুর ঘরে, এবং সুধু কেউ না থাকা অবস্থায় আমি মাঝে মাঝে সেটা পর্ণগ্রাফি দেখার জন্য ব্যবহার করতে পারতাম।


আমি ওই বয়সেই সেক্সের কথা জানতাম স্কুল ও বন্ধুদের কাছ থেকে, কিন্তু সমকামী সেক্সের কথা আমাদের তখন জানা ছিল না। গে শব্দটি আমার ইউরপের এক আগের স্কুলে অনেকে অপমান হিশাবে ব্যবহার করত, তবে তখন শব্দটির মানে আমার ঠিক মাথায় ঢোকেনি। তো শুরুতে আমি সুধুই সাধারণ পর্ণ দেখতাম, এবং আমার তখন মনেও হয়নি যে পৃথিবীতে এ ছাড়া অন্য কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আমার এক পর্যায় মনে হয় যে আমার কাছে স্ক্রিনের সুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও বেশ আকর্ষণীয়। এই থেকে আমার ছেলেদের ব্যাপারে কৌতূহল হয়, এবং এ পথ ধরে আমি গে পর্ণ আবিশকার করি। আমি তখনও ব্যাপারটা নিয়ে ভাল ভাবে চিন্তা করে দেখিনি, এবং আমি যে কাজটা করছি সেটা যে সমকামী আচারনের পরিচয় বা ভুল এরখম কোন চিন্তা আমার মাথায় আশেনি। এর উপরে গে পর্ণ দেখেও আমার প্রথমে তেমন কিছু মনে হয় না, আমি সুধু ভাবি যে এই শব যে করা জায় সেটা আমি একা কখন ভাবতে পারতাম না।


কিন্ত তারপর আমার নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে আমি বিষয়টা উলটে পাল্টে দেখি। এবং এভাবেই আমি আমার নিজের আশল যৌন আকর্ষণ বুঝতে পারি।


এখানেই শুরু হয় আমার নিজের মনের ভেতরের সব সমস্যা। আমি গে পর্ণ দেখার আগে আমার মনের ভেতরের একটি ছোট্ট, খানিকটা ধার্মিক কন্ঠ আমাকে বলত যে আমি যে পর্ণ দেখছি এটা ভুল। এ কন্ঠটি গে পর্ণ বা অন্য পর্ণের মধ্যে কোন তফাত খুজত না, এবং আমি এ কন্ঠটাকে প্রায় সব সময়ই উপেক্ষা করতাম। কিন্তু আমি গে পর্ণ আবিশকার করার পরে আমার মনে আরেকটি নতুন কণ্ঠ জাগে। এই নতুন কণ্ঠস্বরটি গে পর্ণ বেশ দৃঢ় ভাবে অপছন্দ করত, এবং দুটো পরুষ মানুষের মিলন এতই খারাপ ভাবে দেখত যে আমাকে গে পর্ণ থেকে দূরে রাখার জন্য কন্ঠটি সাধারণ পর্ণ দেখার উৎসাহ দিত।

আমি এখন অতীতে ফিরে তাকালে বোঝার চেষ্টা করি যে সমকামীতা যে ভুল, এ চিন্তা আমার মাথায় কি করে আশল। আমি এটা বুঝতাম যে আমি কম্পিউটারে পর্ণ দেখছি এ কথা আব্বু-আম্মু জানতে পারলে প্রচন্ড রাগ করত। কিন্ত কিভাবে যেন আমি এটাও অনুভব করি যে আমি গে পর্ণ দেখছি সেটা আব্বু-আম্মু জানতে পারলে আরও অনেক বেশি রাগ করত। ঠিক কিভাবে আমার মাথায় এ চিন্তাটি আশে এবং ধিরে ধিরে দৃঢ় বিশ্বাসে পরিনিত হয় তা আমি এখন বলতে পারব না। আমাদের বাসায় তো সমকামী মানুষদের নিয়ে ভাল বা খারাপ, কোন কথাই হত না। আমি আমার এই পরিস্থিতি এখন ব্যাখ্যা করতে গেলে একটা কথা আমার মনে বারবার ভেশে ওঠে। সেটা হোল যে সমকামী মানুষ তখন সমাজ থেকে পুরপুরি অদৃশ্য ছিল - সেটা বাংলাদেশী সমাজ থেকে হোক, বা আমরা তখন যে দেশে থাকতাম সে দেশের সমাজ থেকে হোক। এবং হয়ত সমকামী মানুষের সমাজে এ অদ্রিশতা এবং স্বীকৃতির আভাব আমার উপর প্রভাব ফেলে আর আমার মনে এ ভাবনা ঢোকায় যে সমকামীতা খারাপ একটা জিনিস। তবে এতদিন পরে ঠিক আমার মাথায় তখন কি ছিল তা তো আমি অবশ্য এখন বলতে পারব না।

তবে আমি নিশ্চিত ভাবে এটা বলতে পারিঃ আমি যখনি বুঝলাম যে আমি যা করছি তাকে সমকামী আচারণ হিশাবে দেখা যায়, আমি ব্যাপারটা নিজের কাছে অশিকার করতে শুরু করি। আমার মাঝে মাঝে ইন্টারনেটে বশা এবং পর্ণ দেখার অভ্যাস আগের মতনই চলতে থাকে, কিন্তু এর বাইরে ব্যাপারটা আমি আমার মনের অনেক গভীরে পুতে রাখি। আমার মেয়েদের প্রতি আকর্ষণের অভাব ছিল না। আমি এ সত্যটি নিজেকে মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দিতাম, এবং নিজেকে বলতাম যে সময়ে আমার একটা গারলফ্রেন্দ থাকবে আর তখন সব ঠিক হয়ে জাবে।
আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ১ম অংশ

আমার নিজের উভকামিতা বোঝা, ১ম অংশ

আমার লেখার বিষয় হবে বিভিন্ন মানুষকে আমার যৌন আবেদনের কথা খুলে বলা এবং তাদের এ বিষয়ের প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ে। কিন্তু মানুষের সাথে এভাবে কথা বলা আমি কেবল মাত্র কয়েক মাস হল শুরু করেছি। আমার মতে আমার জীবনের এ পর্যায় পৌছানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও আমার কিছু কথা বলা উচিত। এই কারনে আমার এই পোস্ট আর এর পরের কয়েকটি পোস্ট লিখব আমার ছোটবেলা নিয়ে, এবং আমি আমার নিজের উভকামিতা কিভাবে গ্রহন করলাম তা নিয়ে।

আমি বারো বা তের বছর বয়সে বুঝতে পারি যে আমার যৌন আকর্ষণ অন্য সবার মতন না। আমার এ বাস্তবতার মুখো মুখি হতে হয় দুঃখজনক ভাবে ইন্টারনেট ও পর্ণগ্রাফির কারনে। আমরা তখন থাকি এশিয়ার এক দেশে, এবং ওই বয়সে আমাদের বাসায় প্রথম ইন্টারনেট নেয়া হয়। তবে তখন ছিল ডায়েল আপ কানেকশনের যুগ, এবং ইন্টারনেট আশা মানে এই না যে আমি শব সময় পর্ণগ্রাফি দেখে বেরাতাম। তাও আবার কম্পিউটার টি ছিল আব্বু-আম্মুর ঘরে, এবং সুধু কেউ না থাকা অবস্থায় আমি মাঝে মাঝে সেটা পর্ণগ্রাফি দেখার জন্য ব্যবহার করতে পারতাম।


আমি ওই বয়সেই সেক্সের কথা জানতাম স্কুল ও বন্ধুদের কাছ থেকে, কিন্তু সমকামী সেক্সের কথা আমাদের তখন জানা ছিল না। গে শব্দটি আমার ইউরপের এক আগের স্কুলে অনেকে অপমান হিশাবে ব্যবহার করত, তবে তখন শব্দটির মানে আমার ঠিক মাথায় ঢোকেনি। তো শুরুতে আমি সুধুই সাধারণ পর্ণ দেখতাম, এবং আমার তখন মনেও হয়নি যে পৃথিবীতে এ ছাড়া অন্য কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আমার এক পর্যায় মনে হয় যে আমার কাছে স্ক্রিনের সুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও বেশ আকর্ষণীয়। এই থেকে আমার ছেলেদের ব্যাপারে কৌতূহল হয়, এবং এ পথ ধরে আমি গে পর্ণ আবিশকার করি। আমি তখনও ব্যাপারটা নিয়ে ভাল ভাবে চিন্তা করে দেখিনি, এবং আমি যে কাজটা করছি সেটা যে সমকামী আচারনের পরিচয় বা ভুল এরখম কোন চিন্তা আমার মাথায় আশেনি। এর উপরে গে পর্ণ দেখেও আমার প্রথমে তেমন কিছু মনে হয় না, আমি সুধু ভাবি যে এই শব যে করা জায় সেটা আমি একা কখন ভাবতে পারতাম না।

কিন্ত তারপর আমার নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে আমি বিষয়টা উলটে পাল্টে দেখি। এবং এভাবেই আমি আমার নিজের আশল যৌন আকর্ষণ বুঝতে পারি।

এখানেই শুরু হয় আমার নিজের মনের ভেতরের সব সমস্যা। আমি গে পর্ণ দেখার আগে আমার মনের ভেতরের একটি ছোট্ট, খানিকটা ধার্মিক কন্ঠ আমাকে বলত যে আমি যে পর্ণ দেখছি এটা ভুল। এ কন্ঠটি গে পর্ণ বা অন্য পর্ণের মধ্যে কোন তফাত খুজত না, এবং আমি এ কন্ঠটাকে প্রায় সব সময়ই উপেক্ষা করতাম। কিন্তু আমি গে পর্ণ আবিশকার করার পরে আমার মনে আরেকটি নতুন কণ্ঠ জাগে। এই নতুন কণ্ঠস্বরটি গে পর্ণ বেশ দৃঢ় ভাবে অপছন্দ করত, এবং দুটো পরুষ মানুষের মিলন এতই খারাপ ভাবে দেখত যে আমাকে গে পর্ণ থেকে দূরে রাখার জন্য কন্ঠটি সাধারণ পর্ণ দেখার উৎসাহ দিত।

আমি এখন অতীতে ফিরে তাকালে বোঝার চেষ্টা করি যে সমকামীতা যে ভুল, এ চিন্তা আমার মাথায় কি করে আশল। আমি এটা বুঝতাম যে আমি কম্পিউটারে পর্ণ দেখছি এ কথা আব্বু-আম্মু জানতে পারলে প্রচন্ড রাগ করত। কিন্ত কিভাবে যেন আমি এটাও অনুভব করি যে আমি গে পর্ণ দেখছি সেটা আব্বু-আম্মু জানতে পারলে আরও অনেক বেশি রাগ করত। ঠিক কিভাবে আমার মাথায় এ চিন্তাটি আশে এবং ধিরে ধিরে দৃঢ় বিশ্বাসে পরিনিত হয় তা আমি এখন বলতে পারব না। আমাদের বাসায় তো সমকামী মানুষদের নিয়ে ভাল বা খারাপ, কোন কথাই হত না। আমি আমার এই পরিস্থিতি এখন ব্যাখ্যা করতে গেলে একটা কথা আমার মনে বারবার ভেশে ওঠে। সেটা হোল যে সমকামী মানুষ তখন সমাজ থেকে পুরপুরি অদৃশ্য ছিল - সেটা বাংলাদেশী সমাজ থেকে হোক, বা আমরা তখন যে দেশে থাকতাম সে দেশের সমাজ থেকে হোক। এবং হয়ত সমকামী মানুষের সমাজে এ অদ্রিশতা এবং স্বীকৃতির আভাব আমার উপর প্রভাব ফেলে আর আমার মনে এ ভাবনা ঢোকায় যে সমকামীতা খারাপ একটা জিনিস। তবে এতদিন পরে ঠিক আমার মাথায় তখন কি ছিল তা তো আমি অবশ্য এখন বলতে পারব না।

তবে আমি নিশ্চিত ভাবে এটা বলতে পারিঃ আমি যখনি বুঝলাম যে আমি যা করছি তাকে সমকামী আচারণ হিশাবে দেখা যায়, আমি ব্যাপারটা নিজের কাছে অশিকার করতে শুরু করি। আমার মাঝে মাঝে ইন্টারনেটে বশা এবং পর্ণ দেখার অভ্যাস আগের মতনই চলতে থাকে, কিন্তু এর বাইরে ব্যাপারটা আমি আমার মনের অনেক গভীরে পুতে রাখি। আমার মেয়েদের প্রতি আকর্ষণের অভাব ছিল না। আমি এ সত্যটি নিজেকে মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দিতাম, এবং নিজেকে বলতাম যে সময়ে আমার একটা গারলফ্রেন্দ থাকবে আর তখন সব ঠিক হয়ে জাবে।
আমি এবং আমার ব্লগ

আমি এবং আমার ব্লগ

আমি অনেক কিছু বলতে চাই, লিখতে কিন্তু বাংলায় কিভাবে তা লিখতে হয়, বলতে হয় তা জানি না।

যেমন আমার নিজের সেক্সুয়ালিটির বাংলাঃ উভকামী। এটা আমি আবিশকার করি Google Translate এর
মাধ্যমে। এ সব্দটি ঠিক নাকি ভুল, তাও জানি না। আমি চেষ্টা করব আমার সব পোস্ট বাংলা ও ইংরেজি তে
লিখতে, তবে আমি জানি যে আমার বাংলা লিখতে গেলে অনেক বানান ভুল হবে, এবং এ জন্য আমি আগে
থেকে মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

আমি জানি যে ইন্টারনেট এরখম অনেক ব্লগ আছে, তবে এর আগে কখনও কোন বাংলাদেশী বা বাঙালীর এ
বিষয় লেখা কোন ব্লগ আমার চোখে পরে নি। তাই আমি ভাবলাম যে আমি নিজে কিছু লিখলে কেমন হয়?

আমার জন্ম ঢাকায়, কিন্তু খুব কম বয়সে আমি আমার পরিবার এর সাথে বিদেশে চলে যাই। সে থেকে
আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাশ করেছি, এবং মাঝে মাঝে দেশেও ফেরত এসেছি। আমার বয়স এখন ২১,
আমি মুসলমান এবং আমি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করি।

আমি জানি যে আমার জীবন যাত্রা বেশীর ভাগ বাংলাদেশিদের থেকে অনেকই ভিন্ন। আমি চার বাছর হোল বিদেশে
এবং আমি দেশে থাকতে কাউকে আমার সেক্সুয়ালিটির কথা বলি নি, এমন কি দেশে সমকামী বা উভকামি বা
LGBT মানুষেরা কিভাবে তাদের জীবন কাটায় তাও কাউকে বলতে পারব না। তবে গত কয়েক মাস হোল আমি
বিভিন্ন বাংলাদেশী, মুসলমান মানুষকে আমারসেক্সুয়ালিটির কথা জানিয়েছি, এবং তাদের প্রতিক্রিয়া খারাপ
হয়নি।আমি লিখছি এআশায় যে আমার জীবনে যা যা ঘটেছে তা অন্য কারুর জীবনের সাথে একটু হোলেয়ও কিছু
না কিছু মিল আছে,এবং আমার অভিজ্ঞতা একটু হোলেয় তাদেরকে সাহায্য করবে। আমি জানি যে আমি
ছোট থাকতে এরখম কিছু পড়তে পারলে মনে অনেক শান্তি পেতাম।

আমি এ ব্লগ এ অধিকাংশ সময় আমার নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখব, তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন LGBT বিষয়
নিয়ে লিখতে পারি।

এবং অবশেষে, আমি এ মুহূর্তে নিজের পরিচয় দিচ্ছি না, এবং আমার লেখায় মানুষ ও জায়গার ব্যাপারে বেশীর
ভাগ details vague রাখছি।
আমি এবং আমার ব্লগ

আমি এবং আমার ব্লগ

আমি অনেক কিছু বলতে চাই, লিখতে কিন্তু বাংলায় কিভাবে তা লিখতে হয়, বলতে হয় তা জানি না।

যেমন আমার নিজের সেক্সুয়ালিটির বাংলাঃ উভকামী। এটা আমি আবিশকার করি Google Translate এর
মাধ্যমে। এ সব্দটি ঠিক নাকি ভুল, তাও জানি না। আমি চেষ্টা করব আমার সব পোস্ট বাংলা ও ইংরেজি তে
লিখতে, তবে আমি জানি যে আমার বাংলা লিখতে গেলে অনেক বানান ভুল হবে, এবং এ জন্য আমি আগে
থেকে মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

আমি জানি যে ইন্টারনেট এরখম অনেক ব্লগ আছে, তবে এর আগে কখনও কোন বাংলাদেশী বা বাঙালীর এ
বিষয় লেখা কোন ব্লগ আমার চোখে পরে নি। তাই আমি ভাবলাম যে আমি নিজে কিছু লিখলে কেমন হয়?

আমার জন্ম ঢাকায়, কিন্তু খুব কম বয়সে আমি আমার পরিবার এর সাথে বিদেশে চলে যাই। সে থেকে
আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাশ করেছি, এবং মাঝে মাঝে দেশেও ফেরত এসেছি। আমার বয়স এখন ২১,
আমি মুসলমান এবং আমি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করি।

আমি জানি যে আমার জীবন যাত্রা বেশীর ভাগ বাংলাদেশিদের থেকে অনেকই ভিন্ন। আমি চার বাছর হোল বিদেশে
এবং আমি দেশে থাকতে কাউকে আমার সেক্সুয়ালিটির কথা বলি নি, এমন কি দেশে সমকামী বা উভকামি বা
LGBT মানুষেরা কিভাবে তাদের জীবন কাটায় তাও কাউকে বলতে পারব না। তবে গত কয়েক মাস হোল আমি
বিভিন্ন বাংলাদেশী, মুসলমান মানুষকে আমারসেক্সুয়ালিটির কথা জানিয়েছি, এবং তাদের প্রতিক্রিয়া খারাপ
হয়নি।আমি লিখছি এআশায় যে আমার জীবনে যা যা ঘটেছে তা অন্য কারুর জীবনের সাথে একটু হোলেয়ও কিছু
না কিছু মিল আছে,এবং আমার অভিজ্ঞতা একটু হোলেয় তাদেরকে সাহায্য করবে। আমি জানি যে আমি
ছোট থাকতে এরখম কিছু পড়তে পারলে মনে অনেক শান্তি পেতাম।

আমি এ ব্লগ এ অধিকাংশ সময় আমার নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখব, তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন LGBT বিষয়
নিয়ে লিখতে পারি।

এবং অবশেষে, আমি এ মুহূর্তে নিজের পরিচয় দিচ্ছি না, এবং আমার লেখায় মানুষ ও জায়গার ব্যাপারে বেশীর
ভাগ details vague রাখছি।